সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে আছিয়ার শেষ আশ্রয়, অনিশ্চয়তায় জীবন ছাতক পৌরসভার টেকসই উন্নয়নে আইইউজিআইপি’র সভা জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশুদের বার্ষিক সমাবেশ, ২ হাজার ৭৫০ শিশুর মাঝে উপহার বিতরণ সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে দিরাই বিএনপিতে বিরোধ চরমে একপক্ষের বহিষ্কারের সুপারিশ, অপরপক্ষের উন্নয়ন সভার ডাক এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব : আইনমন্ত্রী জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা ৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে শতাধিক বসতভিটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে

  • আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৪৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে
শহীদনূর আহমেদ::
সুনামগঞ্জে শহর থেকে গ্রাম - সবখানেই উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং পাশের সিলেট জেলার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে ইয়াবার চালান জেলার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। এরপর সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। ফলে মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ছে তরুণ সমাজ, আর বাড়ছে সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক অস্থিরতা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা এখন মাদক কারবারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইয়াবা সীমান্ত অতিক্রম করে কিংবা সিলেটের জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা হয়ে সুনামগঞ্জে প্রবেশ করছে। পরে একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব ইয়াবা জেলার বিভিন্ন উপজেলার ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, এই চক্রে সীমান্ত এলাকার মাদকসেবী, মুদিদোকানি, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকচালক, এমনকি নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট আস্তানায় বিক্রির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে এবং সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিয়েও ইয়াবা বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে অনুসন্ধানে জানাযায়, আগে যেখানে গাঁজা ও দেশীয় মদের প্রভাব ছিল, সেখানে এখন ইয়াবার বিস্তার সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক তরুণ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে মাদকসেবীর সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও তেরাপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক মাহফুজ মিয়া। বছর দেড়ক সময় ধরে ইজিবাইক ছেড়ে বাড়িতেই আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। মাহফুজ ও তার স্ত্রী মিলে বাড়িতে বসেই ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক বনে গেছেন। এলাকার মাদকসেবীরা রাত ও দিনে কোনো ধরনের বাঁধা ছাড়াই প্রতি পিস ইয়াবা ৩০০ টাকা দরে সংগ্রহ করে থাকেন মাহফুজের ঘরে জানালা দিয়ে। সম্প্রতি হাতেনাতে ইয়াবাসহ মাহফুজকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। মাহফুজ জেলে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই এলাকার আরেক মাদক মোতালেব মিয়া। দুই ছেলে সুবেল ও রুবেলকে নিয়ে দেদারসে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছেন। এলাকায় তার ইয়াবা ব্যবসা ওপেন সিক্রেট হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানান, শুধু তেরাপুর নয় উত্তর সুরমা পাড়ের তিন ইউনিয়নের প্রায় গ্রামেই ইয়াবা পাওয়া যায়। সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ডিলার রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসা করেন এমন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী আছেন। মাদকসেবীসহ অস্বচ্ছল পরিবারের নারী-পুরুষ এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। ২৫০-৩০০ টাকায় হলেই ইয়াবা পাওয়া যায়। সীমান্তের ওপার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশ আসছে বলে জানান তিনি। সুরমা ইউনিয়নের ষোলঘর গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, সুরমা ইউনিয়নের অনেকেই এই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মাঝে মধ্যে দুয়েকজন ধরা পড়লেও কয়েকদিন জেলে থাকার পর এলাকায় এসে আবারও ব্যবসা শুরু করে দেয়। এলাকার মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করতে চায় না। সীমান্তে যারা চোরাচালানের সাথে জড়িত তাদের অনেকেই এই ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানান তিনি। জেলা মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু সালেহ বলেন, জেলায় মাদকের বিস্তার আমাদের জন্য অশনি সংকেত। আমাদের তরুণরা মাদকের ভয়াল থাবার মুখোমুখি। এর বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। সর্বত্রই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সংগঠন জেলাব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে নানা কাজ করছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনসহ সর্বমহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান করছি। মাদকদ্রব্য জব্দের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করছি। আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানান তিনি। সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় ইয়াবার যেসব চালান ধরেছি এবং জড়িতদের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছি তা হচ্ছে- সুনামগঞ্জে ইয়াবা আসছে সিলেটের জকিগঞ্জ হয়ে। এখনও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসার তথ্য আমরা পাইনি। তবে সীমান্তে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি নজরদারি রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে

সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে